অন্য খবর

আলু বেশিদিন ভালো রাখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম

আলু বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ। তরকারি থেকে শুরু করে ভাজি, ভর্তা কিংবা নানা ধরনের নাশতা তৈরিতে আলুর ব্যবহার রয়েছে। তাই অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আলু কিনে ঘরে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু সঠিকভাবে রাখা না হলে আলুতে অঙ্কুর গজাতে পারে, কুঁচকে যেতে পারে কিংবা পচে নষ্ট হতে পারে।

আলু কত দিন ভালো থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সংরক্ষণের পরিবেশের ওপর। অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা ও আলো আলুর অঙ্কুরোদগম ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই আলু দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ঠান্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় রাখা জরুরি। এ ছাড়া সংরক্ষণের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে আলুর অপচয় কমানো সম্ভব।

১. পেঁয়াজ ও রসুন থেকে আলাদা রাখুন

আলু সংরক্ষণের সময় পেঁয়াজ ও রসুন থেকে আলাদা রাখুন। পাশাপাশি রাখলে এগুলোর সংরক্ষণকাল কমে যেতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও রসুন থেকে নির্গত গ্যাস আলুর অঙ্কুরোদগম দ্রুত বাড়ায়, এমন দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। আলু ভালো রাখতে মূলত তাপমাত্রা, আলো ও আর্দ্রতার দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই আলু, পেঁয়াজ ও রসুন আলাদা জায়গায় রাখাই ভালো।

২. প্লাস্টিকের ব্যাগে আটকে রাখবেন না

বাজার থেকে আলু আনার পর প্লাস্টিকের ব্যাগে দীর্ঘ সময় আটকে না রেখে বের করে নিন। বন্ধ ব্যাগে বাতাস চলাচল কম হলে আর্দ্রতা জমতে পারে। এতে আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আলু রাখার জন্য বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঝুড়ি বা পাত্র ব্যবহার করুন। পাটের ব্যাগ কিংবা জালের ঝুড়িও এ ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে। তবে যে পাত্রেই রাখুন, সেখানে যেন অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে না থাকে।

৩. কাগজের ব্যাগেও রাখা যায়

আলু সংরক্ষণের জন্য কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আলো থেকে আলুকে আড়াল করা যায়, যা অঙ্কুর গজানো কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্যাগটি যেন বাতাস চলাচলে পুরোপুরি বাধা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আলু রাখার জায়গা শুষ্ক হওয়াও জরুরি। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কাগজের ব্যাগ আর্দ্র হয়ে যেতে পারে, যা আলু সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. চুলা ও তাপের উৎস থেকে দূরে রাখুন

রান্নাঘরে আলু রাখা সুবিধাজনক হলেও চুলা, ওভেন কিংবা অন্য কোনো তাপের উৎসের পাশে রাখা ঠিক নয়। তাপমাত্রা বেশি হলে আলু দ্রুত অঙ্কুরিত হতে পারে এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই আলু রাখার জন্য বাড়ির এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে তাপ কম, আলো পড়ে না এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে। জায়গাটি অবশ্যই শুকনো হতে হবে।

৫. নিয়মিত আলু পরীক্ষা করুন

সংরক্ষণ করা আলু কয়েক দিন পরপর পরীক্ষা করুন। কোনো আলুতে পচন, অতিরিক্ত নরম হয়ে যাওয়া কিংবা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা গেলে সেটি অন্য আলু থেকে সরিয়ে ফেলুন। এতে পচা আলুর সংস্পর্শে অন্য আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

আলুতে অঙ্কুর গজালে সেটি সব সময় পচে গেছে, এমন নয়। তবে আলু সবুজ হয়ে গেলে, তেতো স্বাদ হলে বা অঙ্কুরের সঙ্গে নরম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সবুজ অংশ ও অঙ্কুরে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান, বিশেষ করে সোলানিন ও চাকোনিন, বেশি থাকতে পারে। এমন আলু না খাওয়াই নিরাপদ, বিশেষ করে যদি তা ব্যাপকভাবে সবুজ হয়ে যায় বা পচে যায়।

সঠিকভাবে আলু সংরক্ষণ করলে তা বেশিদিন ব্যবহারযোগ্য রাখা যায়। এতে খাবারের অপচয় কমে এবং বারবার আলু কেনার প্রয়োজনও কমতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button